দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস সংক্রমণের শততম দিনে দেশে শনাক্তের সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৯৯ জন নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৬১৯। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৮ জন। করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০৯ জন। গত একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ২৯৭ জন। রোববার পর্যন্ত ৯৯ দিনে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৭৩০ জন। সোমবার একদিনে (শততম দিনে) সুস্থ দেখানো হল ১৫ হাজার ২৯৭ জনকে। সব মিলে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সোমবার কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
একদিনে সুস্থতার হারে এত পার্থক্যের ব্যাখ্যা করে নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘গত দিনের চেয়ে আমরা আজকে (সোমবার) সুস্থতা অনেক বেশি বলছি। কারণ যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে হাসপাতালে শুধু না, বাসায় এবং যারা উপসর্গবিহীন ছিলেন তাদের সবাই এটার মধ্যে যোগ হয়েছেন। তাদের সংখ্যা হিসাব করে আইইডিসিআর সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের এ পরিসংখ্যান দিয়েছে। তাই এ সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।’ ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। সে হিসাবে সোমবার সংক্রমণের শততম দিন। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নাসিমা জানান, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬০টির মধ্যে ৫৮টি পরীক্ষাগারে ১৫ হাজার ৭৩৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৫০৩টি নমুনা। গত একদিনে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
নাসিমা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ, ৬ জন নারী। তাদের ২৫ জন হাসপাতালে, ১১ জন বাড়িতে মারা গেছেন এবং দুইজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের ১৮ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম, ৬ জন সিলেট, ১ জন রংপুর এবং ১ জন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৫ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩ জনের ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ৩ জনের বয়স ছিল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৫৩৬ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১০ হাজার ২৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৯৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৮১৮ জন। তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে দুই হাজার ৯২২ জনকে। এখন পর্যন্ত তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৫৮ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ৬৭ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৬১ হাজার ৬৮৯ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬১ হাজার ৬৬৯ জন।
করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে অনুরোধ করে নাসিমা সুলতানা বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরাও সেবা দিতে গিয়ে সংক্রমিত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। ক্ষতি এড়াতে সবাই সতর্ক থাকুন। এছাড়া জোনভিত্তিক লকডাউনের বিষয়টি ওয়েবসাইটে বিস্তারিত দেয়া আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।












