বিচারের অপেক্ষায় আটক থাকা শিশুদের প্রথম দলের মুক্তি দেয়াকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
মহামারি করোনাভাইরাসে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ইউনিসেফের সহযোগিতায় ভার্চুয়াল শিশু আদালত চালু করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, গত মার্চে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে আটক শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এ সংখ্যা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। ছোটখাটো অপরাধের বিচার বা সাজার অপেক্ষায় থাকা এক হাজারের বেশি শিশু বর্তমানে তিনটি কেন্দ্রে আটক রয়েছে।
কেন্দ্রগুলোতে সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও লজিস্টিকস সহায়তা, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও হাইজিন সুবিধা থাকার ফলে সেখানকার শিশু ও কর্মীদের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বা সেলফ আইসোলেশনের পক্ষে খুবই কঠিন। এসব কেন্দ্র সংক্রমণের হটস্পট হয়ে উঠতে পারে।
শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে ভার্চুয়াল আদালত চালুর অধ্যাদেশ জারি করেন এবং ১২ মে বাংলাদেশে প্রথম ভার্চুয়াল শিশু আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এই আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় সমাজসেবা অধিদফতর এবং কেন্দ্রগুলোতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।
বুধবার (১৩ মে) প্রথম দফায় সাত শিশুর মুক্তির পথ অনুসরণ করে আগামী দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকশ শিশু মুক্তি পেতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই শিশুরা যাতে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে পারে সেজন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতে সহায়তার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদফতরের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।
এসব শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, মনোসামাজিক সহায়তা, সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা এবং শিক্ষার মতো অন্যান্য সেবা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে পরিবারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।
ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে একটি কিশোর বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে আরও একটি আদালত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যেটা শিশুদের প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় নেবে। শিশুবান্ধব আদালতসহ শিশুদের ন্যায়বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের শিশু অধিকার বিষয়ক বিশেষ কমিটি এবং আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।
১০২টি আদালতের মধ্যে ১৬টি আদালতের পরিবেশ এখন শিশুদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ভীতিকর এবং সেগুলোর কর্মীরা শিশু অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
ভার্চুয়াল আদালত চালুর অধ্যাদেশের পর ইউনিসেফ এখন প্র্যাকটিস নির্দেশনা প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, যাতে শিশু আদালতগুলো আরও শিশুবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।












