সোমবার সকালে হুট করে খবর ছড়িয়ে পড়ে- সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্মে ৪ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। এ নিয়ে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ঘটনায় রাগান্বিত ও বিব্রত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাকিব। কাঁকড়ার হ্যাচারি একক মালিক সাকিব নন। এর অংশীদার বন্ধু সগীর হোসেন পাভেল। মূলত পাভেলই হ্যাচারির দেখভাল করেন। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না সাকিব। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ প্রসঙ্গে পাভেল বলেন, ‘সে ঘটনার পর আমি সাকিবের সঙ্গে গতকাল কথা বলেছি।
আমরা আজ (২১শে এপ্রিল) ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনায় বসব। সাকিব শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করে দিতে বলেছে যদিও আমরা আগেই বলেছি ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে সকল বকেয়া দিয়ে দেওয়া হবে এবং সাকিব এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। গতকাল যা ঘটেছে তা সত্যিই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং আমরা বিস্মিত।’
শ্রমিকদের সবাই চার মাসের বেতন পাবেন বলে জানান সগীর, ‘দেখেন, আমাদের চালান গত জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে এবং জানুয়ারিতেই আমরা ৮০ শতাংশ শ্রমিকদের বিদায় দিয়েছি এবং সেখানে ২৫০ এর মতো শ্রমিক ছিল। এখানে এখন ৪০ জনের মতো শ্রমিক রয়েছে যারা এখন ফার্মে ছিল যাদের আমরা ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে ধারাবাহিকভাবে বিদায় দিয়েছি। তাই সব শ্রমিক চার মাসের বেতন পাবে এটা ঠিক না। তারপরও আমরা জানুয়ারিতে বিদায় দেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিকের প্রতি আমরা অত্যন্ত নম্র ছিলাম এবং তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করতে রাজি ছিলাম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে এবং অনেক বিল আটকে আছে।’
শ্রমিকদের বিদায় দেওয়ার আগে তাদের কাছ থেকে সময় নিয়েছিলেন বলেই দাবি করেন সগীর। সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের সময় দিতে বলেছিলাম। তারপরও আন্দোলনটি গতকাল হয়েছে এবং এটা খুব অপ্রত্যাশিত ছিল। কেবল আমাদের খামারই না, এখন অন্যান্য সমস্ত খামারগুলোও একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কেউ পণ্য রফতানি করতে পারছে না।’












