মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিগতভাবে মানুষের ভেতর দু’টি প্রবৃত্তি রেখে দিয়েছেন। সুপ্রবৃত্তি যা মানুষের আত্মায় নূর সৃষ্টি করে এবং কুপ্রবৃত্তি, যা মানুষের আত্মায় পশুত্বকে শক্তিশালী করে।
মানুষ যখন পবিত্র জীবন যাপন করে, তখন তার আত্মায় নূর সৃষ্টি হয়, ফলে সে ঈমানের পথে ধাবিত হয়। আর যখন সে অপবিত্র জীবন যাপন করে, তখন তার ভেতর পশুত্ব জেগে ওঠে, ফলে সে শয়তানের অনুসারী হয়। তাই পবিত্রতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে।
বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৩)।
ইসলামি শরীয়ত মুমিন মুসলমানকে তার জীবনের সর্ব পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মহানবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবনচরিত পাঠ করলে এমন কিছু সুন্নতের খোঁজ পাওয়া যায়- যা বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই প্রতিরোধে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের পরামর্শের অনুকূল।
>>> রাসূলের (সা.) হাদিস (পর্ব-৭)
প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসংখ্য হাদিস থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক উল্লেখযোগ্য কিছু হাদিস তুলে ধরা হলো-
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা :
পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে মহানবী (সা.) যেমন রাস্তাঘাট ও জনসমাগমের স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করেছেন, তেমনি কেউ তা ফেললে অন্যদের পরিষ্কার করতে উৎসাহিত করেছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা দুই অভিশপ্ত (কাজ) থেকে বেঁচে থাকো। তারা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুই অভিশপ্ত কী? তিনি বললেন, যে মানুষের চলাচলের পথে বা তাদের বিশ্রামের স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৮)।
অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘ঈমানের সত্তরের বেশি বা ষাটের বেশি শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা; লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৪)।












