পাঁচ নম্বর লেনের সাঁতারু সবাইকে পেছনে ফেলে পৌঁছে গেলেন গন্তব্যে। ফিনিশিং মার্ক ছুঁতেই অ্যাথেন্স অলিম্পিক অ্যাকুয়াটিক সেন্টারের স্ক্রিনে ভেসে উঠল বড় এক মুখ। লেখা ডলি আক্তার, বাংলাদেশ। প্রথম হয়েছেন লাল-সবুজের দেশের এই নারী সাঁতারু। পোশাক বদলের পরই ডলি আক্তারকে ঘিরে ধরলেন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। অ্যাকুয়াটিক সেন্টারের গ্যালারি থেকে অনেকের কৌতূহল দৃষ্টি। কী করেছেন বাংলাদেশের এই সাঁতারু?
সাঁতারুর ও দেশের নামের পাশাপাশি ভেসে উঠেছিল টাইমিংও। ৩০.৭২ সেকেন্ডে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইল শেষ করে ডলি আক্তার ৭৩ জন সাঁতারুর মধ্যে হয়েছিলেন ৬১তম। তাহলে তাকে নিয়ে এত হইচই কেন? আসলে অলিম্পিক গেমসে প্রথম হওয়া বলে কথা। ডলি প্রথম হয়েছিলেন ১ নম্বর হিটে। স্বাভাবিকভাবে তার ছবিটি ভেসে উঠেছিল জায়ান্ট স্ক্রিনে নাম, দেশ ও টাইমিংসহ।
২০০৪ অ্যাথেন্স অলিম্পিকে এক কথায় ওটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য একটা আনন্দের মুহূর্ত। ৬-৭ জন বাংলাদেশি মিডিয়াকর্মীর মধ্যে আমিও ছিলাম সেখানে। সাঁতার শেষে বাংলাদেশের মিডিয়াকর্মীরাই প্রতিক্রিয়া নিয়েছিলেন ডলির। বাংলাদেশের কোনো প্রতিযোগীর জন্য হিটে প্রথম হওয়াটাও কি কম!
জয়-পরাজয় নয়, অংশগ্রহণই বড় কথা- বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা অলিম্পিকে অংশ নেন এ মন্ত্র বুকে ধারণ করেই। সেখানে কেউ হিটে প্রথম হয়ে ক্ষণিকের আনন্দ দিলে সেটা তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকারই কথা।
‘২০০৪ সালের আগস্ট মাসে গ্রিসের ওই সময়টার কথা কখনওই ভুলব না। আপনারা মিডিয়ার ভাইরা, অলিম্পিক ও সাঁতার ফেডারেশনের কর্মকর্তারা সাঁতার শেষে আমাকে সাবাশ সাবাশ বলেছিলেন। যদিও পারফরম্যান্স কিছুই ছিল না। হিটের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলেছিলাম আর টাইমিং ভালো হয়েছিল মাত্র; কিন্তু আমার তিন অলিম্পিকের মধ্যে ওই মুহূর্তটাই বেশি স্মরণীয়’- সোমবার দুপুরে রাজবাড়ী থেকে বলছিলেন বাংলাদেশ আনসারের এই সাঁতারু।
ক্যারিয়ারের শুরুতে ভাল পারফরম্যান্স করার পর কোন ক্রীড়াবিদকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনার জীবনের লক্ষ্য কী? বেশিরভাগই বলেন- অলিম্পিক। অর্থাৎ অলিম্পিক গেমসে অংশ নেয়া একজন ক্রীড়াবিদের আজন্ম স্বপ্ন।












