যশোর শহরে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ কম, তাই কিছুটা স্বস্তিতে আছেন তুষার ইমরান। তবে দেশের জন্য দিন দিন চিন্তা বাড়ছে তার। খেলার চেয়ে ভাবনা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য। তুষার মনে করেন ক্রিকেটের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব, কিন্তু মানুষের নয়। করোনার ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিনগুলোতে তিনি ভাবছেন অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়েও। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট সর্বাধিক রান ও সেঞ্চুরির মালিকের বয়স এখন ৩৬ পেরিয়েছে। তাই ক্রিকেটকে বিদায় বলারও একটা পরিকল্পনা করে ফেলেছেন এরই মধ্যে।
তুষার বলেন, ‘ক্রিকেট তো একদিন ছাড়তে হবেই। আমি চিন্তা করেছি যতদিন ফিট থাকবো ততদিন খেলবো।
ফিট বলতে যতদিন রান করতে পারবো। আমার রান করতে না পারলে ভালো লাগে না। গত লীগে আমার ব্যাটে তেমন রান আসেনি। ভীষণ খারাপ লেগেছে তখন। তখনই ঠিক করেছি এভাবে চললে এই বছর না হলেও আগামী বছর মাঠের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেবো।
দেখেন, ক্রিকেটের ক্ষতি যা হচ্ছে তা পুষিয়ে নেয়া যাবে। আবার মাঠে ফিরলে খেলা হবে। কিন্তু যেভাবে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। এতে করে যারা খেটে খাওয়া মানুষ, দিন আনে দিন খায় তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাবে। আমি চিন্তা করছি তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়াই কঠিন হবে। অনেক ক্ষতি হয়ত পূরণও করা যাবে না। তাই আগে জীবন তারপর ক্রিকেট- এটাই একমাত্র ভাবনা।’
মাঠে খেলা না থাকলেও তুষার ফিট রাখছেন নিজেকে। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটারদের ফিট থাকতেই হয়। তবে এসব নিয়ে এখন খুব একটা ভাবছি না। আমার মনে ভয় যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হই! তখন তো নিজেকে লড়াই করতে হবে বেঁচে থাকার জন্য। এজন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা যা করণীয় তাই করছি। দুই বেলা জিম করি। বাসার পাশে মাঠে রানিং করি। যেন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।’
২০০১-এ ওয়ানডে ও ২০০২-এ টেস্ট অভিষেক তুষার ইমরানের।
তবে ২০০৭ এর পর আর কোন ফরম্যাটেই জাতীয় দলের হয়ে খেলা হয়নি। হাল ছাড়েননি তিনি। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেকে বার বার প্রমাণ করেছেন। চালিয়ে গিয়েছেন ফেরার লড়াই। কিন্তু ১৭৭ ম্যাচে ৩১ সেঞ্চুরি ৬২ ফিফটিতে ৪৩.২ গড়ে ১১৭০৪ রান করেও মিলেনি সুযোগ। দেশের চার দিনের ক্রিকেট সর্বাধিক রান ও সেঞ্চুরি করেও কাটাতে হয়েছে আক্ষেপ নিয়ে। এখন তুষারের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা কঠিন। কারণ চার দিনের জাতীয় ক্রিকেট লীগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে দিতে হয় বিপ টেস্ট। যেখানে ফিটনেসের মানদণ্ড ধরা হয়ছে ১১ পয়েন্ট। কিন্তু তুষার সেটি করতে ব্যর্থ। যদিও এবার খেলেছেন বিশেষ বিবেচনায়। কিন্তু ব্যাটে রান আসেনি। ফিটনেস টেস্টের এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাও একটা ব্যাপার যে কতদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে পারবো। এখন তো বিপ টেস্ট দিতে হয়। তাই এই সময়টাতে চেষ্টা করছি আগের ফিটনেস ফেরাতে। যদি হয়, তো খেলা চালিয়ে যেতে সমস্যা হবেনা।’
এবছর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে তুষার খেলছেন ব্রাদার্স ইউনিউনের হয়ে। লীগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার সামনে আরো অনিশ্চয়তা। তবে আশা ছাড়েননি তিনি। তুষার বলেন, ‘পরিস্থিতি যদি ভালো হয় তাহলে সিসিডিএম চাইলে হয়তো লীগ মাঠে গড়াবে। সেটি হলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে। যারা শুধু লীগ খেলেই নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে।’
জাতীয় দলের হয়ে ৫ টেস্ট ও ৪১ ওয়ানডে খেলা তুষারের এই সময়ে বড় উপলব্ধি তার অতীতের ভুল। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে যেভাবে শুরু করেছিলাম। আমার যে যোগ্যতা ছিল তা কাজে লাগাতে পারিনি। তাই এখন ভাবি কেন যে এমনটা হলো! কি আর করা, এখন সামনে যা আছে তাই করতে হবে।’












