ডা. নূর হিশাম আব্দুল্লাহ। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ বিভাগের মহাপরিচালক। বিশ্বের তিনজন সফল ডাক্তারদের মধ্যে তিনি একজন। চলমান প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে উন্নিত ও ভাইরাস প্রতিরোধে নুর হিশাম সারাবিশ্বের ডাক্তারদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। গোটাাবিশ্বে মালয়েশিয়ার জয়জয়কার, ভুয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক।
শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকেও শ্রী পেতালিং তাবলীগ জমায়েত থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ঠিক তখনই দেশটিতে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার ঘোষণা করে দেশটির সরকার। সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া হয় বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ। তবে ভাইরাস মোকাবেলায় সবচেয়ে গুরুত্ব¡পূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নুর হিশাম আব্দুল্লাহ। তার বুদ্ধিমত্তায় করোনার সুফল পেতে শুরু করেছে দেশবাসী।
চলমান পরিস্থিতিতে মোট আক্রান্তের পরিমাণের চেয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন অর্ধেকেরও বেশি রোগি। গোটা মালয়েশিয়া জুড়ে তার কৌশল প্রয়োগে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। নূর হিশাম আব্দল্লাহকে জাতীয় নায়কের খেতাবে ভূষিত করেছেন দেশের জনগণ। সম্প্রতি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলা ও সুকৌশলে পরিচালনা করার জন্য চীনের একটি টিভি স্টেশন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের মধ্যে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মহাপরিচালক ডাঃ নুর হিশাম আব্দুল্লাহকে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চায়না গ্লোবাল টিভি নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড -১৯ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর লড়াইয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অ্যান্টনি ফৌসি এবং নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক অ্যাশলে ব্লুমফিল্ড এর পাশাপাশি ডাঃ হিশাম তিন শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকের একজন । মহামারী চলাকালীন তিন সপ্তাহ চলা তাদের দেশবাসীর জন্য প্রদান করা তথ্য গুলি “শান্ত, স্পষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য” হওয়ার কারণে তিনজন ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন।
‘তাদের কেউই মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী নন তবে তিন জনই তাদের দেশের কোভিড -১৯ এর প্রতিক্রিয়া প্রকাশে নিজের দেশের মুখপ্রাত্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন”’ সিজিটিএন বলেছে। এতে বলা হয়েছে, তিনজনই পারিবারিক নাম হয়ে উঠেছেন এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট এবং টিভিতে হার্টথ্রবস, রক স্টার এবং জাতীয় নায়ক বলা হচ্ছে।
সিজিটিএন বলেছে, একটি অভূতপূর্ব বিশ্বব্যাপী মহামারী এবং বিশ্বব্যাপী সরকারগুলি মাঝে মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখাতে মন্থর হয়ে পড়ছিল, এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিমূলক পদক্ষেপ এবং পরস্পরবিরোধী বার্তা প্রেরণ করায় ড. ফাউসি, ডা. ব্লুমফিল্ড এবং ডা. হিশাম কণ্ঠস্বর বিশ্বস্ত এবং আশ্বাসের উৎস হয়ে উঠেছে। কোভিড -১৯ মহামারী পরিচালনার জন্য চীনের একটি টিভি স্টেশন কর্তৃক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎ্সকদের মধ্যে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক দাতুক ডা. নূর হিশাম আবদুল্লাহ কে বিশেষ আবে উল্লেখ করেছেন।
ডা. হিশাম (৫৭) ২০১৩ সাল থেকে হেলথ ডিরেক্টর-জেনারেল হিসেবে রয়েছেন, তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাসের
বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে জনসাধারণকে অবহিত করন এর জন্য আপডেট প্রদান, এবং তথ্য ও পরিসংখ্যানের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতার কারনে মালয়েশিয়ানরা তাকে “বিশস্ত মুখ” হিসাবে চিহ্নিত করেছেন । তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসাধারণকে আপডেট করে চলেছেন। সিজিটিএন বলেছে, তার জনগণের খুব কাছের ব্যক্তি হয়ে মানুষের সামনে উপস্থাপন করার কারনে তার এই গ্রহনযোগ্যতা তৈরি হয়েছে যেখানে ব্লুমফিল্ডকে জরুরী সময়ে ত্রাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ডা. হিশাম, ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয় থেকে সার্জারি ও মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেছেন, ১৯৮৮ সালের আগস্টে ফিরে তিনি মেডিকেল অফিসার হিসাবে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেছিলেন। তিনি এন্ডোক্রাইন শল্য চিকিৎ্সা করার জন্য দক্ষ এবং অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড এবং সিডনির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। তিনি এন্ডোক্রাইন সার্জারি সম্পর্কিত বহু স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং লিখিত পাঠ্যপুস্তক অধ্যায়গুলিতে গবেষণা ধর্মী লেখা প্রকাশ করেছেন।
ডা. হিশামের শুভা কাঙ্খীরা তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও প্রশংসা করে বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, মালয়েশিয়া তাকে পেয়ে ভাগ্যবান।












