করোনা ভাইরাসে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বহুগুণে বাড়ছে সংক্রমণ। আতঙ্কে সময় কাটছে সবার। খেলোয়াড় থেকে শুরু সবাই ঘরবন্দি। এই মহামারীর সময় ফুটবলার থেকে শুরু করে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আমাদের সময়কে বলেছেন, ‘বি সেইফ। নিজেকে সাবধানে রাখেন। কোয়ারেন্টিনে ভালো থাকার চেষ্টা করেন। সব কিছু পরে আসবে। খেলাধুলা, টাকাপয়সা এগুলো পরে। আপনি আপনার পরিবারকে নিয়ে সেফ থাকেন। চেষ্টা করেন যতক্ষণ সেফ থাকতে পারেন।’ করোনা ভাইরাসের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের খেলাধুলা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ঘরে সময় কাটছে খেলোয়াড়দের। এ দুর্যোগের সময় সব ফুটবলারের খোঁজখবর নিচ্ছে বাফুফে। এরই মধ্যে অসহায় দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত এটার মধ্যেই আছি। দশ থেকে পনেরো দিন হয়েছে মাত্র। এর মধ্যে তো অনেক সিদ্ধান্ত একসঙ্গে নেওয়া যায় না। যেটা আছে আমরা সেটা কন্টিনিউ করব। আমরা এ পর্বেই আছি। এর পর পৃথিবীর অবস্থা কী হয়, সেটার ওপর নির্ভর করে আমরা পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাব।’ বড় কোনো দুর্যোগের সময় বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতা করে থাকে ফিফা, এএফসি। করোনা ভাইরাসের এই সময় কি কোনো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো? সালাউদ্দিন বলেন, ‘তাদের নিজেদের অফিস আছে। তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবে। তারা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় যে এই এই জিনিসগুলো করবে, তখন তারা প্রস্তাব করে যে তোমরা তা চাও নাকি, নেবে নাকি। এভাবে কাজ করে তারা। আপনি চিঠি দিলেই যে তারা অনুমোদন করবে তা নয়, তারা গোটা পৃথিবী ওপর নজর আছেÑ যারা অফিসিয়াল মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনগুলো ম্যানেজ করে। এখন পর্যন্ত কোনো অনুদানের ঘোষণা আসেনি।’
খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার ফুটবলাররা। এসব ফুটবলারের পাশে দাঁড়াবে বাফুফে। কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব ততটুকুই দাঁড়াবে। পুরো বিষয়টি বাস্তবতার ওপর নির্ভর করছে। তো যতখানি আমাদের সম্ভব ততখানি দাঁড়াব। অবশ্যই দাঁড়াব। এই করোনা ভাইরাস এক মাসে শেষ হবে নাকি তিন মাসে শেষ হবে নাকি এক বছরে শেষ হবেÑ এ ভবিষ্যদ্বাণী কেউই দিতে পারবে না। তা হলে সেটা বেস করে পরিকল্পনা করা যায়। এখন তো কোনো ভিত্তি নেই।’ লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্লাবগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ ব্যাপারে বাফুফের কিছু করার আছে কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী সালাউদ্দিন বলেন, এগুলো হচ্ছে পেশাদার ক্লাব। আপনি যদি দেখেন ইউরোপে ওরা কোটি কোটি টাকা বেতন দেয়। তাদের কিছু কিছু ক্লাব আছে বেতন ফিক্সড করে দিয়েছে। আবার কিছু কিছু ক্লাব আছে বেতন অর্ধেক করেছে। আমাদের এখানে দুই সপ্তাহ হলো খেলা বন্ধ। পরিস্থিতি আরেকটু সামনের দিকে যাক তখন বোঝা যাবে কার কোথায় সাহায্য দরকার, কে কী সাহায্য করতে পারবে। এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাসের কারণে বাফুফেকেও তো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে? সালাউদ্দিন বলেন, ‘ক্ষতিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে এই করোনা ভাইরাস আমার দেশ থেকে চলে যাক। এটার দিকেই চেয়ে আছি আমরা।’












