সারা দেশের কৃষিপণ্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় নিয়ে যেতে ১ মে থেকে তিনটি রুটে বিশেষ পার্সেল সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু চাহিদাপত্র না থাকায় কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি রুটের সার্ভিস বন্ধ ও একটির রুট পরিবর্তন করে রেলওয়ে। এবার আরো একটি ট্রেনের রুট পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রেলওয়ে। এরই অংশ হিসেবে আজ থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের পার্শ্বেল সার্ভিসটি চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী রুটে চলাচল করবে। এর আগে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার সার্ভিসের রুটেরও পরিবর্তন এনেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় এখন রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার পার্শ্বেল ট্রেন তিনদিন চলার পর রুট পরিবর্তন করে ঢাকা-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-গৌরীপুর-জামালপুর রুটে চালানো হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে সাড়া না পাওয়ায় চালুই করা যায়নি খুলনা-ঢাকা রুটের সার্ভিসটি। বাধ্য হয়ে খুলনা-ঢাকা পার্শ্বেল সার্ভিসটি বন্ধ রাখে রেলওয়ে। একই কারণে ১-৩ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের পার্শ্বেল সার্ভিসটিও বন্ধ ছিল। আজ থেকে এ ট্রেনটি চট্টগ্রাম-ভৈরব-ময়মনসিংহ-জামালপুর-সরিষাবাড়ী রুটে চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে বিকালে ও সরিষাবাড়ী থেকে সকালে গন্তব্যের উদ্দেশে পণ্য পরিবহন করবে সার্ভিসটি। দুই জোড়া রেক দিয়ে সার্ভিস পরিচালনা করায় এ ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রাখা হয়নি। এ কারণে ট্রেনটি প্রতিদিন উভয় মুখে চলাচল করবে বলে জানিয়েছে পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয়।
এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনটির রেক কম্পোজিশন ছিল ৭/১৪ (এল ভ্যান চারটি, ভিকে দুটি ও এসএলআর একটি)।নতুন রুটের (একটি এসএলআর, চারটি এলআর ও একটি ভিকে) রেক কম্পোজিশন ৬/১২। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটের ট্রেনটির কম্পোজিশন ৫/১০ (এল ভ্যান চারটি ও এসএলআর একটি)।
রেলের পরিবহন বিভাগ সূত্র জানায়, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারছে না। এ কারণে গুডস ট্রেনের পাশাপাশি তিন জোড়া পার্শ্বেল স্পেশাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে ভুল রুট নির্ধারণের কারণে সুবিধাভোগীদের কাছে সাড়া ফেলতে পারেনি বিশেষ এই ট্রেনগুলো। এ কারণে রুট পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ না করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি নির্দেশনায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিত্যপণ্য সরবরাহের জন্য বিশেষ পার্শ্বেল সার্ভিসগুলো চালানো হয়েছিল। কিন্তু তাড়াহুড়োয় সম্ভাব্যতা যাচাই না করে চালানোর ফলে ট্রেন কাজে আসেনি। এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোয় এসব সার্ভিস সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে রেলওয়ে। চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী রুটের সার্ভিসটি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাজে আসবে বলে মনে করছেন তিনি।












