বাংলাদেশি রাইডাররা নেপালের পাহাড়ি রাস্তায়

বাইক নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা কমবেশি বাইকারদেরই থাকে। তবে যারা একটু অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ও প্রকৃতিপ্রেমী তারাই মূলত দেশের ও দেশের বাইরে বাইক নিয়ে এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং রাইড দিয়ে থাকেন। চ্যালেঞ্জিং বলছি এই কারণেই যে, নেপালের পাহাড়ি রাস্তা খুবই ভয়ংকর। কিছু কিছু রাস্তা এতটাই ভয়ংকর যে কোনটা যে রাস্তা তাই বোঝার কোনো উপায় থাকে না। তাই যারা বাইক নিয়ে এই ধরনের রাইড দেন তাদের হিল রাইড ও অফরাইডের ভালো অভিজ্ঞতা থাকে। নাহলে হুট করে উঁচু-নিচু ও আঁকা-বাঁকা ওই পাহাড়ি রাস্তায় সারভাইব করা অনেক কঠিন।

তাছাড়া তাপমাত্রাও সেখানে একটা মেজর ইস্যু। হিমালয়ের পাশে হওয়ায় প্রায় সব সময় সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে। বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা মাইনাসেই ওঠা নামা করে। সেক্ষেত্রে বাইক চালানোর সময় হাত পা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এইসব চ্যালেঞ্জকে সাথে নিয়েই প্রকৃতির টানে সেই দুঃসাহসিক কাজটিই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশি ৬ জন রাইডার।

‘বাংলাদেশি রাইডার’ ব্যানারে ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে মোটরসাইকেলে করে ২০ দিনে প্রায় ৩২০০ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা পাড়ি দিবেন তারা। যার প্রায় পুরো রাস্তাটাই ভাঙ্গাচূড়া। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তার অস্তিত্বই বোঝা মুশকিল। মানাং, বান্দিপুর, পোখারা বেনি, মুক্তিনাথ, মুস্তাং ভ্যালী, কালাপানি সহ আরো বেশকিছু যায়গায় তারা বাইক নিয়ে ভ্রমণ করবেন।

মোট ৬ জনের টিমের নেতৃত্বে থাকবেন আবু নাসের। তার সঙ্গে কো-রাইডার হিসাবে থাকবেন,র‌্যাপিড পিআর এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নগর সংবাদ এর সম্পাদক আকাশ ফাহিম, আসাদুজ্জামান বিলাস, হামিম মাগফিরুল ইসলাম, এমরান হাসান ও সবুজ শেখ। ইতোমধ্যে বিদেশের মাটিতে অনেক জায়গাতেই এরকম চ্যালেঞ্জিক রাইড দিয়েছেন তারা।

টিমের নেতৃত্বে থাকা আবু নাসেরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাদের সাথে কিছু নেপালী বাইকারও থাকবেন। দেশের হয়ে তারা একটাই বার্তা বহন করবে, ‘নিরাপদে হেলমেট পড়ে (নিজে ও সহযাত্রী) মোটর বাইক চালানো।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সহযোগিতা পেলে নেপাল থেকেও প্রতি বছর অনেক বাইকার বাংলাদেশ ভ্রমণ করবেন বলে আশা করা যায়। এ জন্য অনতিবিলম্বে কার্নেট সুবিধা খুলে দেওয়া এবং মোটরসাইকেলের সিসি লিমিট তুলে দেওয়া একান্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক ও অ্যাডভেঞ্চারাস রোডের মধ্যে একটি হলো মুক্তিনাথ ও মুস্তাং ভ্যালী যাওয়ার রাস্তাটা। প্রায় পুরো রাস্তাটাই দুর্গম। তবে রাস্তাগুলো যতই দুর্গম হোক না কেন, এর ভাঁজে ভাঁজে মিশে আছে দারুণ অ্যাডভেঞ্চার আর স্বর্গীয় সব সৌন্দর্য। সেসব সৌন্দর্যের স্বাদ নিতেই বাইকারদের নেশার মতো কাজ করে এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং রাইড।

নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রকাশে পোখারাও অন্যতম। ধৌলগিরি, অন্নপূর্ণা, মানাসলু ও মাচ্ছাপুছারে শৃঙ্গ দৃশ্যমান হয় এখানে। উত্তরে তুষারশুভ্র হিমালয়ের শিখরশ্রেণি, সবুজ গালিচায় মোড়া ভূমি তার মধ্যে তিনটি অপূর্ব প্রাকৃতিক লেক।  দেবতাও যেন তার অবসরে তুলির টানে এঁকেছেন পোখারাকে। প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের সব সময় উপচে পড়া ভিড় থাকে এখানে। এসব কিছু জয় করতেই বাংলাদেশি এই ৬ বাইকাররা বাইক নিয়ে প্রকৃতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে যাত্রা করবে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন