গাংনীতে চাষীদের কার্ডে ধান গম দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা

গাংনীতে দীর্ঘ ৬ মাস পরে খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় শুরু করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা খাদ্যশষ্য সংরক্ষণ ও মনিটরিং কমিটি লটারীর মাধ্যমে খাদ্য গুদামে ৬ মাসেও ১ কেজি ধানও ক্রয় করতে পারেনি। বিগত নভেম্বর‘২১ মাসের ২৬ তারিখে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা খাদ্যশষ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্যদের নিয়ে চলতি মৌসুমে আমন ধান সংগ্রহ বিষয়ক বিশ্লেষন করা ও প্রকৃত ধান চাষীদের নিকট থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে সভা করা হলেও অদ্যাবধি ১কেজি ধানও ক্রয় করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি ধান ক্রয় শুরু হলেও প্রকৃত চাষীরা কেউ ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে আসছেন না। রাজনৈতিক নেতাদের আশির্বাদপুষ্ট কতিপয় ব্যবসায়ীরা অফিস ম্যানেজ করে জেলার বাইরে থেকে ধান আমদানী করে খাদ্য গুদামে দিচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে প্রকৃত চাষীদের একজনকেউ দেখা যায়নি। কাগজ কলম ঠিক রেখে সরকারি নীতিমালার বাইরে ব্যবসা চালিয়ে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে সুবিধা বাদীরা।

জানা গেছে, গাংনীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার করে উপজেলার বাইরে থেকে ধান গম সংগ্রহ করে গুদামে বিক্রি করছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অফিস ও নেতাদের মধ্যে কমিশনের চুক্তিতে ধান গম ক্রয় করা হচ্ছে।কোন কোন ক্ষেত্রে মানহীন  ধান গমও ক্রয় করা হচ্ছে। সরকারী মূল্যের চেয়ে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশী হওয়ায় স্থানীয় ধান চাষীরা খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করেননি।

খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধানের মন প্রতি সরকারী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮০ টাকা। অপরদিকে খোলা বাজারে ধান বিক্রয় করা হচ্ছে ১১ শ’ টাকা থেকে সাড়ে ১১ শ’ টাকা করে। সে কারনে গোডাউনে স্থানীয় চাষীরা ধান দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।

খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাংনী উপজেলায় লটারীর মাধ্যমে ১ হাজার ১০৬ জন ধান চাষীর নিকট থেকে (তিন টন হিসাবে) ১ম পর্যায়ে ৭৩৫ মে.টন ধান ক্রয় করা হবে। সে ক্ষেত্রে লটারীকৃত ১ হাজার ১০৬ জন চাষী তাদের উৎপাদিত ধান সরকারী মূল্যে গুদামে দিতে পারবেন।

এদিকে গাংনীর একজন ধান গম ব্যবসায়ী ম ই হক জানান, গাংনীতে এবার যে ধান হয়েছে তার দাম সরকারি দামের চাইতে খুব একটা তফাৎ নয়। যে কারণে স্থানীয় চাষীরা সরকারি গোডাউনে ধান গম বিক্রয় করতে চাচ্ছেন না। এই জন্য আমরা স্থানীয় চাষীদের কার্ড সংগ্রহ করে তাদেরকে সেই কার্ড বাবদ কিছু টাকা দিয়ে বাইরের ধান গম সরকারি গোডাউনে বিক্রয় করছি। তাছাড়া গাংনীতে প্রকৃত পক্ষে কোন চাষী এবার ধান বা গম সরকারি গোডাউনে বিক্রয় করছেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষকের একটি কার্ডের মাধ্যমে গম বিক্রয় করে ৩হাজার টাকা লাভ হয় এই লাভে সকলকে ম্যানেজ করতে প্রায়১২ থেকে ১৪শ’ টাকা খরচ হয়ে যায়। এসব কিছু ম্যনেজ করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধান গম সংগ্রহ করে তা স্থানীয় চাষীদের মাধ্যমে সরকারি গোডাউনে বিক্রয় করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গাংনীতে এবার সিন্ডিকেট নয় কিন্তু ক্ষমতাসীন দলীয় লোকজন যে যেমন পারছে ধান গম বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে চাষীদের কার্ডের মাধ্যমে বিক্রয় করছে।

উপজেলার আজান গ্রামের কয়েকজন চাষী জানিয়েছেন, গ্রামের মাতব্বররা কার্ড নিয়ে গেছে এখন সেই কার্ডে তারা কী করছে তাতো আমরা জানিনা। এক কার্ডধারি কৃষক জানান, আমাদের এবার গমের আবাদ হয়নি তবে ঐ কার্ডে মাতব্বররা গম দিয়েছে কিনা জানা নাই। এদিকে খাদ্য গুদামে কৃষকের তালিকা দেখে দেখা যায় কৃষকের কার্ড ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা গম বিক্রয় করছে।

এব্যাপারে খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি হাসান সাব্বির জানান, আনুষ্ঠানিকভাারারবে উদ্বোধনের মাধ্যমে ধান ক্রয় শুরু করা হয়েছে। চাষীদের কার্ডে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। আবার চাষীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা দেয়া হচ্ছে। কে ধান দিচ্ছে তা আমরা দেখবো না। আমরা দেখবো শুধু লটারী প্রাপ্ত চাষী কিনা। এক্ষেত্রে উপজেলার ৯ টি ইউপি ও পৌরসভা খেকে উল্লেখিত সংখ্যক চাষীরা তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রয় করতে পারবেন।

গত ডিসেম্বর’২০ মাসের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি’২১ মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত স্বচ্ছভাবে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও ৬ মাসেও ১ কেজি ধান খাদ্য গুদামে ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। খাদ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধান ক্রয় না হওয়ায় সরকারীভাবে চালের সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন