কুড়ি বছর ধরে ধার করা লোকবল দিয়ে চলছে মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ

মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগে কুড়ি বছরে ২৩ জনের ২১ জনই  ধার করা প্রধান কর্মকর্তা দায়ীত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে যিনি নির্বাহী প্রকৌশলী আছেন তিনিও  ধারকরা নির্বাহী প্রকৌশলী। একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদ থাকলেও পদটি দির্ঘদিন ধরে শূন্য। চারজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ থাকলেও মাত্র  একজন দায়ীত্ব পালন করছেন। তাও চুয়াডাঙ্গা থেকে ধারকরা। কার্যসহকারী একটি পদ শুন্য আছে।

গত কুড়ি বছরে  ২৩ জন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়ীত্ব পালনকরা  ২১জনই কুস্টিয়া অথবা চুয়াডাঙ্গা জেলার পাশাপাশি  অতিরিক্ত দায়ীত্ব হিসেবে মেহেরপুরে দায়ীত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে  চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়ীত্বে আছেন মেহেরপুর। স্থায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী না থাকায় অফিসের অধিনস্তদের ফাইলের পাহাড় নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্থায়ী দায়ীত্বের জেলায় ছুটতে হয়। গুরুত্পূর্ণ পদে লোকবল না থাকায় উন্নয়ন ব্যাহতসহ চলমান উন্নযনমূলক কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তাছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে সঠিক সময়ে চিঠি চালাচালিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় অফিসের অধিনস্তদের। এই অফিসে কর্মকর্তা পদে লোকবল না থাকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে অন্তসার শূন্য। ২০১৫ সালে ৬৩ দিনের জন্য আনিসুজ্জামান মাসুদ এবং ২০১২ থেকে ২০১৩ প্রায় দুই বছরের জন্য শেখ আবদুল আলী নামের একজন স্থায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক অফিস সহকারী জানান- স্থায়ীভাবে নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকার কারণে কোন কোন সময় তাদের ফাইল নিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার স্থায়ী দায়ীত্বের জেলায় আসা যাওয়া করতে হয়।  ফলে ওইদিন অফিসের কোন দায়ীত্ব পালন করতে পারেন না তিনি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকেদারদের অভিযোগ- স্থায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় ও সহকারী প্রকৌশলী পদ থাকলেও লোকবল নেই। ফলে উন্নয়নমূলক কাজে সাইড দেখার জন্য কার্য্যসহকারী লোকবল সংকটে ঠিকাদারগণ সঠিক সময়ে কাজ শুরু এবং শেষ করতে পারেন না।

অধিকাংশ সময় নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তার স্থায়ী জেলা থেকে কার্য-সহকারীদের  যাতায়াতসহ আনুসাঙ্গিক সুবিধা দিয়ে নিয়ে আসতে হয় সাইডে। ঠিকেদারদের দাবি স্বাধীনতার তীর্থভ‚মি মুজিবনগর খ্যাত মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্থায়ী নির্বাহী প্রকৗশলী, উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী পদে ধারকরা লোকবল বন্ধ হোক।

বার্তা প্রেরক
এ সিদ্দিকী শাহীন
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন