হোমনায় বিধবা বয়স্ক প্রতিবন্ধি বিধবা ভাতার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

হোমনায় বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি শতাধিক ভাতাভোগির টাকা বিকাশ একাউন্ট থেকে প্রতারকচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অসহায় ভাতাভোগীরা সমাজসেবা অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। জানা যায়, হোমনা উপজেলার একটি পৌরসভার ও ৯টি ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধি ভাতা সোনালী ব্যাংক থেকে তিন মাস পর পর উত্তোলন করত। পরবর্তীতে সরকার ঘোষিত সমাজসেবা অফিস কর্তৃক ভাতাভোগীদের ভাতা বই ডিজিটালাইজেশন করার লক্ষ্যে, ভাতাভোগীর মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি কার্ডের ভিত্তিতে এম আই এস এন্ট্রি করে।

এ সময় ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করার জন্য নগদ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভাতাভোগীদের কাছে ১শ’ টাকা নিয়ে নতুন করে সিম বিক্রি করে। পরে সমাজসেবা অফিস মোবাইল ব্যাংক নগদের মাধ্যমে সরাসরি ভাতার টাকা উপকার ভোগীদের মোবাইলে পাঠান। কিন্তু ভাতা ভোগীর মোবাইলে টাকা জমা হলেও একটি প্রতারকচক্র একই সময়ে শতাধিক একাউন্ট থেকে অটো ক্যাশ আউট করে নেয়। পরবর্তীতে যে নম্বরে ক্যাশআউট হয়েছে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে ,৩১ জুলাই বিকাল সাতটা ত্রিশ মিনিটে এবং ৭ আগস্ট নয়টা ত্রিশ মিনিটে একই সময়ে প্রায় শতাধিক বয়স্ক ভাতাভোগীর টাকা ক্যাশ আউট করা হয়েছে।

ঘারমোড়া গ্রামের বয়স্ক ভাতা ভোগী রোশন আরা বেগম জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা তুলতে এজেন্টের কাছে গেলে তাকে জানানো হয়, তার একাউন্ট থেকে ৩ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নাই। বিষয়টি তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে জানিয়েছেন। জানা গেছে, মোবাইল এজেন্টরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় গোপন পিন নম্বর জেনে নেন। অধিকাংশ পিন নম্বর প্রায় একই রকম। পাড়াতলি গ্রামের ওমর আলী (৭২) জানান, আমার মোবাইল অ্যাকাউন্টে ৪ হাজার৫০০ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু মোবাইলে কোন টাকা নাই।

সমাজসেবা অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, গুলবরের নেছা (৬৯) নামের এক মহিলা সমাজসেবা অফিসের সামনে বিলাপ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার এক ছেলে পাগল, সংসারে আয়ের কেউ নাই। সরকার আমাকে টাকা দিল, সেই টাকা গেল কই। এ সময় তার পাশে আরো কয়েক জন বসে কাঁদছিলেন। এ ব্যাপারে সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী জানান, ভাতাভোগীদের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের বর্তমান পিন নম্বর পরিবর্তন করতে হবে এবং পিন নম্বর কারো কাছে শেয়ার করা যাবে না। যে সমস্ত এজেন্টরা দুঃস্থ মানুষের টাকা তুলে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বত্মন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

বার্তা প্রেরক
মোঃ কামাল হোসেন
হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন