দিনাজপুর বীরগঞ্জে বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল মুক্ত করলেন গ্রামবাসীরা

দিনাজপুর বীরগঞ্জে আদালতের রায় (ডিগ্রি) প্রাপ্তি হইয়া বড়কালা এলএসএস বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল মুক্ত করলেন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীরা। স্বরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে গত মঙ্গলবার প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে দখলমুক্ত করে। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মাসের স্থানীয় আমানুল্লাহ নামে জনৈক ব্যাক্তি বড়কালা এলএসএস বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামীয় সম্পত্তিতে বান্ডারী ওয়াল ও টিনের কাচা ঘর নির্মান করেন দখল করার পায়তারা করে ।

এই বড়কালা এলএসএস বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যাতে জাতীয়করনে বাধাগ্রস্থ করার জন্যই স্থানীয় লাল রাম দাস বাদি হয়ে বড়কালা এল,এস,এস বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ বাংলাদেশ গনপ্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বীরগঞ্জ ৬ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটি ৩১ ই জানুয়ারী ২১ তারিখে অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারক খারিজ করেন দেন।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম ও আমানুল্লাহ সরকারের স্ত্রী তাজনুর বেগম বড়কালা এলএসএস বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বড়কালা মৌজার ১৮ নং দাগের ৫৫ শতক মধ্যে ৩৩ শতক তম্মধ্যে ২৩ শতক দাগের পশ্চিম মধ্যাংশ রাস্তার সংলগ্ন এবং একই মৌজার ১৮ নং দাগের ৫৫ শতক মধ্যে ১০ শতক দাগের পশ্চিম মধ্যাংশের রাস্তা সংলগ্ন দাবি করে দিনাজপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা আনায়ন করে। সকল কাগজপত্র বিচার বিশ্লেষন করে আদালত গত ৯ই ডিসেম্বর ২১ তারিখে বাদি দ্বয়ের মামলা ডিসমিস আদেশ প্রদান করেন। বর্তমানে বড়কালা এলএসএস বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপক্ষে কোন মামলা নেই বলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেন ।

উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের বড়কালা এলএসএস বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে ভুমি দস্যুরা সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে ঘর নির্মান করে। যা দেখে বিদ্যালয়ের ম্যনেজিং কমিটির সদস্যরা অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে ১৯ই অক্টোবর মঙ্গলবার বিকালে জমি দখলের পায়তারাকে ধুলিস্যাত করে দখল মুক্ত করেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অভয় সরকার জানায়, বড়কালা গ্রামবাসীর উদ্যোগে ২০০৯ সালে বড়কালা এলএসএস বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। এরপর একই সালের ২২ জানুয়ারী মোছাঃ জিন্নাতুন নেছাকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব সহ ৪ জন শিক্ষিকাকে নিয়ে নতুন উদ্দ্যেমে বিদ্যালটি চালানো শুরু করা হয়। এর পর থেকে সরকারের পাঠ্য বই সরবরাহসহ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অত্র বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চলমান আছে ।

তিনি আরোও ২০০৭ সালে ২৩ জানুয়ারী ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অখিল চন্দ্র দাস মারা যায়। কিন্তু আমান উল্লাহ তাকে জীবিত দেখাইয়া গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ একটি ভুয়া রেজুলেশনে মৃত অখিল চন্দ্রের স্বাক্ষর জ্বাল করিয়া আমান উল্লাহ তার স্ত্রী তাজনুর বেগম ও শ্যালক আমিনুল ইসলাম এর নামে ০৭ মে ২০১৫ ও ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং তারিখের ভুয়া দলিল তৈরী করে। যখন বিদ্যালয়টি সরকারী করনের কাজ সম্পন্ন হয় তখন আমান উল্লাহ আদালতে গিয়ে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। যাতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করনে বাধাগ্রস্থ হয়।

আদালত যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা, তদন্ত ও সাক্ষ্য গ্রহন কালে আমান উল্লাহ নিজে আদালতে জবান বন্দিতে বলেন, তিনি ২০০৮ সালে অব্যহতি নিয়েছেন এবং স্কুলের জাল ভুয়া রেজুলেশনে স্বাক্ষর করিয়াছেন বলে সাক্ষ্য দিলে আদালত উক্ত মামলাটি খারিজ করিয়া স্কুলের পক্ষে রায় ঘোষনা করেন। পীর মোহাম্মদের পুত্র আমান উল্লাহর স্ত্রী তাজনুর বেগম, শ্যালক আমিনুল ইসলামসহ কিছু সার্থন্বেষী মহল একত্রিক হয়ে আদালতের রায় অমান্য করিয়া বিদ্যালয়ের জমি দখলের পায়তারা শুরু করেন।

প্রধান শিক্ষক মোছাঃ জিন্নাতুন নেছা জানায়, আমান উল্লাহ মামলায় হেরে গিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আমান উল্লাহ বিদ্যালয়ের জমিতে অবস্থিত বাগানের গাছপালা কেটে জোর পূর্বক টিনের ঘর নির্মান করার চেষ্টা করে। বাধ্য হয়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করিলে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হইলে আমানুল্লাহ বিদ্যালয়ের জমি জবর দখল করিবে না মর্মে অঙ্গিকার করিলে পুলিশ চলিয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলিয়া যাওয়ার পর বিবাদীগণ পুনরায় জবর দখলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখিয়াছে। বিদ্যালয়ের জমি আত্মৎসাদের উদ্দ্যেশে জ্বাল দলিল তৈরী করিয়া কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা করে হেরে গিয়ে বর্তমানে শিক্ষক ও কমলমতি শিশুদের স্কুলে আসার পথে বাধা ও হুমকি দিচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানায়, বিদ্যালয়টি বড়কালা গ্রামের হত দরিদ্র বস্তি এলাকায় অবস্থিত। যার কাছাকাছি কোন প্রথমিক বিদ্যালয় নেই। প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষিকাকে নিয়ে বিদ্যালয়টি হতে প্রতি বৎসর নিজ নামে ডি.আর ভূক্ত করিয়া ছাত্র-ছাত্রী সমাপনি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। সমাপনি পরিক্ষার ফলাফল শতভাগ। বিদ্যালয়টির ইএমআইএস কোড ০১৩১২০৮৯০ খোলা আছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘ ২০০৯ সাল হতে অদ্যাবধি কোন বিল, ভাতা, বেতন ছাড়াই পাঠদান পরিচালনা করিতেছে। জাতীয়করনের জন্য সকল কাগজপত্র মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে।

মামলার বাদি আমিনুল ইসলাম ও আমানুল্লাহ স্ত্রী তাজনুর বেগম বলেন, বড়কালা এলএসএস বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির উপর যে কয়েকটি হয়েছিল তার সকল মামলার রায় প্রদান করেছেন আদালত। একাধিক মামলা রায় আমাদের বিপক্ষে চলে যাওয়ায় আমরা গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে মাঠে বসত বাড়ী তৈরী করেছি। তবে আমরা এখানে বসবাস করিনা। গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে আমাদের প্রাচীরসহ ঘরের বেড়া চাটাই ভেঙ্গে দিয়েছে। উল্লেক্ষ, গত ১৯ আগষ্ট ২০০২ ইং তারিখে ৭৫৩৬ নং এবং গত ২৬ অক্টোবর ২০০২ ইং তারিখের ৮৪১৭ নং দলিল মুলে ৩৩ শতক জমি জেএল নং- ৩৯, সিএস খতিয়ান নং- ২৯, এসএ খতিয়ান ৪৭। যাহার খারিজ খতিয়ান- ১৯৬, ডিপি- ৭, মাঠপর্চা- ৭১ বিদ্যালয়ের নামে পরিশোধ আছে। ঐ জমিতে বিদ্যালয় ও বাগান রয়েছে।

বার্তা প্রেরক
মোঃ নাজমুল ইসলাম (মিলন)
দিনাজপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন