করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছু বন্ধের মধ্যেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষমতার বিপরীতে আগে থেকেই চট্টগ্রাম ওয়াসায় পানির ঘাটতি ছিলো ১০ থেকে ১৫ কোটি লিটার।
এর মধ্যে দেশে চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্নস্থানে জীবণুনাষক পানির স্প্রে, সব শ্রেণির মানুষের ঘরে অবস্থান ও ঘন ঘন হাত ধোয়ার প্রবণতার কারণে নতুন করে আরো ৭ কোটি লিটার পানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ।
তবে চট্টগ্রাম ওয়াসা বলছে, পানির উৎপাদন ঘাটতি থাকলেও রেশনিং-এর মাধ্যমে নগরীর সব এলাকায় পানি সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে রাত দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে রোববার সকালে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার সবগুলো পানি শোধনাগারে পানির উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষমতা দৈনিক ৩৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে নগরীতে পানির চাহিদা রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি লিটার। বাৎসরিক হিসেবে চাহিদা বা ঘাটতি হিসেব করা হয়ে থাকে। তবে দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লাগাতার সরকারি ছুটি এবং সব কিছু বন্ধ পরিস্থিতিতে সব মানুষ ঘরে অবস্থানের কারণে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে নতুন করে। বিশেষ করে সড়ক ও পাড়া মহল্লা জীবাণুমুক্ত করতে নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় ট্রাকে ট্রাকে জীবাণুনাষক পানির স্প্রে, মানুষের ঘন ঘন হাত ধোয়ার প্রবণতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে কমপক্ষে ৭ কোটি লিটার।
চট্টগ্রাম নগরীর সাউথ খুলশি আবাসিক এলাকাসার বাসিন্দা অধ্যাপক মনোয়ারা সুলতানা বলেন, ‘আমরা এই এলাকায় ওয়াসার কোন পানি সরবরাহ পাইই না। দিনে দুই-এক ঘণ্টা পানি পাওয়া গেলেও অন্যসময় গভীর নলকূপের পানির ওপরই নির্ভর করতে হয়।’
নগরীর বায়েজিদ থানার শেরশাহ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, সবাই আমরা এখন ঘরবন্দী। তাই পানির চাহিদা বেশি, কিন্তু ওয়াসার পানি সব সময় পাওয়া যায় না। রাতে কয়েকঘণ্টা পানি পাওয়া গেলে সেগুলি জমিয়ে রেখে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সদস্য মহসীন কাজী জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নিজ নিজ ঘরে অবস্থানরত নগরবাসীর মধ্যে পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। টেকনিক্যাল কারণে বা পানি প্রেশার কম থাকার কারণে কোন কোন এলাকায় পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। ফলে রেশনিং-এর মাধ্যমে পানি সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে ওয়াসাকে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানি নির্ভর ৩টি পানি শোধনাগার এবং ৯৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহ করে ওয়াসা। কিন্তু বর্তমানে ৫৬টি নলকুপ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, পাইপ লাইনে সমস্যার কারণেও অনেক এলাকায় পানি সরবরাহ হচ্ছে না। এর ফলে নগরীর কিছু এলাকার মানুষ পানি সংকটে রয়েছেন। এর মধ্যেও বিভিন্ন পাম্প হাউজে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের থাকা-খাওয়া নিশ্চিত করে দায়িত্বরত রেখেছি। চাহিদার বিপরীতে বড় উৎপাদন ঘাটতির কারণে নগরীর পানি সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না।












